বুধবার, ১০ জুন ২০২৬ ।। ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ২৪ জিলহজ ১৪৪৭

শিরোনাম :
এবারের হজে ৬৪০ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করেছে সৌদি আরব ‘বাজেটের পরিধির চেয়ে নিত্য পণ্যের দাম কমার সংবাদ চায় জনগণ’  সরকারের ৫ বছরের মেগা কর্মপরিকল্পনা ‘ভারতে ধর্ম গ্রহণের স্বাধীনতা সবার জন্য সমান হওয়া উচিত’ ‘যোগ্য দায়িত্বশীল হতে প্রয়োজন আদর্শিক ও দক্ষতার উন্নয়ন’ আল আকসার ঐতিহাসিক নিদর্শন সরানোর অপচেষ্টা ইসরাইলের, হামাসের সতর্কবার্তা আর্থিক খাতে রাজনীতি নয়, সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে: গাজী আতাউর রহমান ইলমি সংকট নিরসনে মাদরাসা দায়িত্বশীলদের জন্য কিছু কথা ১৮২ কোটি টাকা ব্যয়ে পুলিশের জন্য গাড়ি কিনছে সরকার দেশে বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ দ্রুত কর্মসংস্থান সৃষ্টি: বাণিজ্যমন্ত্রী

এআই ব্যবহৃত কোরআনের ব্যাখ্যা অগ্রহণযোগ্য, মিশরের গ্র্যান্ড মুফতি

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

|| জাহেদুল ইসলাম আল রাইয়ান ||

মিশরের গ্র্যান্ড মুফতি শাইখ ড. নাজির আয়াদ মুসলিম সমাজকে সতর্ক করে বলেছেন, পবিত্র কুরআনের ব্যাখ্যা (তাফসির)‑এ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উপর নির্ভরতা গ্রহণযোগ্য বা অনুমোদিত নয়। তিনি বলেন, কুরআন এমন এক পবিত্র গ্রন্থ যাকে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা হলে তা অসত্য ব্যাখ্যা, ভুল ধারণা ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

গ্র্যান্ড মুফতি ড. আয়াদ বলেন, কুরআনের ব্যাখ্যা করা কোনো সাধারণ প্রক্রিয়া নয়; এটি গভীর জ্ঞান, ভাষাগত দক্ষতা এবং ইসলামী ঐতিহ্য‑ভিত্তিক শিক্ষার দাবি। শুধু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বা স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের দিকে তাকালে পবিত্র কুরআনের অর্থের সঠিকতা ক্ষুণ্ণ হতে পারে, কারণ এই প্রযুক্তিগুলোতে ইসলামী ব্যাখ্যার মৌলিক স্তর যেমন আরবি ব্যাকরণ, নাজিলের প্রেক্ষাপট এবং শরীয়াহ‑ভিত্তিক বিশ্লেষণ অনুধাবনের ক্ষমতা নেই।

গ্র্যান্ড মুফতি আরও বলেন, কুরআনের ব্যাখ্যার দায়িত্ব শুধুমাত্র যোগ্য ও প্রশিক্ষিত আলেমদের হাতেই থাকা উচিত, যারা দীর্ঘকাল ধরে প্রমাণিত তাফসির গ্রন্থ এবং ইসলামী শিক্ষার নিয়ম‑নীতি অনুসরণ করে আসছেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি ইসলামী জ্ঞানের ঐতিহ্য ও পদ্ধতিকে বদলে দিয়ে ভুল ব্যাখ্যা তৈরি করতে পারে, যা মুসলমানদের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।

ড. আয়াদ মুসলমানদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, যারা কুরআনের অর্থ ও ব্যাখ্যা জানতে চান, তারা যেন বিশ্বস্ত তাফসির গ্রন্থ, প্রমাণিত ইসলামী স্কলার বা স্বীকৃত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কাছে যান। তিনি বলেন, এটি বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য ব্যাখ্যা নিশ্চিত করবে এবং মুসলিম সমাজকে বিভ্রান্তি থেকে রক্ষা করবে।

গ্র্যান্ড মুফতির এই সতর্কতা এমন এক সময় এসেছে, যখন কৃত্রিম প্রযুক্তি চরম দ্রুততায় জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবহার হচ্ছে এবং বিশেষ করে ধর্মীয় বিষয়ে প্রযুক্তি‑ভিত্তিক ব্যাখ্যার প্রলোভন দিন দিন বাড়ছে। তাঁর বক্তব্য মুসলিম সমাজকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে, প্রযুক্তি সহায়ক হিসেবে থাকতে পারে, কিন্তু পবিত্র কুরআনের ব্যাখ্যা করা বাইরের কোনো স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার হাতে ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়।

লেখক: কলামিস্ট ও শিক্ষার্থী, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়,কায়রো,মিশর

এমএম/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ