শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬ ।। ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ ।। ১১ সফর ১৪৪৮

শিরোনাম :
মসজিদে নববীর কুরআন শিক্ষক শায়খ কারিম হাসুনার ইন্তেকাল আয়া সোফিয়ায় পুনরায় নামাজ শুরুর ছয় বছর পূর্তিতে এরদোগানের বার্তা ইসলামী আন্দোলন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি মারুফ, সেক্রেটারি শরীয়াতুল্লাহ সাভারে চাঁদা দাবির জেরে পুলিশ-সন্ত্রাসীদের গোলাগুলি ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত চার সমুদ্রবন্দরে দারুল উলুম দেওবন্দে উপস্থিতি ও শৃঙ্খলায় কঠোরতা, নতুন নির্দেশিকা জারি মিরপুরের একটি মসজিদে নেওয়া হবে মুয়াজ্জিন কাম ছানী ইমাম ঢাকায় আসছেন দেওবন্দের মুহতামিম, জেনে নিন ৪ দিনের কর্মসূচি সিলেটে জেলা ও মহানগর নেতাদের সঙ্গে আমিরে মজলিসের মতবিনিময় গণভোটের রায় পাশ কাটানোর চেষ্টা করলে সরকার বিপদে পড়বে: খেলাফত মজলিস

তারাবির নামাজ না পড়লে কি রোজা হবে?

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

পবিত্র রমজান মাস শুরু হওয়ার পর অনেক মুমিনের মনে একটি সাধারণ প্রশ্ন উঁকি দেয় যে, তারাবির নামাজ না পড়লে দিনের বেলার রোজা কবুল হবে কি না। শরীয়তের বিধান অনুযায়ী, রোজা এবং তারাবির নামাজ দুটি পৃথক ইবাদত। রোজা রাখা ইসলামের পাঁচটি মৌলিক স্তম্ভের একটি এবং এটি প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক ও সুস্থ মুসলমানের ওপর ফরজ।

অন্যদিকে, তারাবির নামাজ হলো সুন্নতে মুয়াক্কাদা বা রাসুল (সা.) এর অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পালনকৃত একটি সুন্নাত। অর্থাৎ, কেউ যদি কোনো কারণে তারাবির নামাজ আদায় করতে না পারেন, তবুও তার রোজা নষ্ট হবে না এবং রোজাটি নিয়মানুযায়ী সম্পন্ন হবে।

তবে রোজা এবং তারাবির মধ্যে গভীর একটি যোগসূত্র রয়েছে। তারাবি শব্দের অর্থ বিশ্রাম বা প্রশান্তি, যা রোজাদারকে সারাদিনের সিয়াম সাধনার পর এক বিশেষ আধ্যাত্মিক প্রশান্তি দান করে।

হাদিস শরীফের ভাষ্য অনুযায়ী, রোজা হচ্ছে আত্মিক পবিত্রতার মাধ্যম আর তারাবি হচ্ছে সেই পবিত্রতাকে পূর্ণতা দেওয়ার ইবাদত। হযরত আবদুর রহমান ইবনে আউফ রা. বর্ণিত হাদিসে রাসুল সা. বলেছেন, আল্লাহ রমজানের রোজাকে ফরজ করেছেন আর আমি তোমাদের জন্য রাতে দাঁড়িয়ে ইবাদত করাকে সুন্নাত করেছি। তাই রোজা না ভেঙেও কেউ যদি তারাবি ছেড়ে দেন, তবে তিনি রাসুল সা. এর একটি বড় সুপারিশ ও অগণিত সওয়াব থেকে বঞ্চিত হবেন।

তারাবির নামাজ না পড়লেও রোজা হয়ে যাবে—এই বক্তব্যের অর্থ এই নয় যে এটি বর্জন করা যাবে। ফুকাহায়ে কেরাম ও বিজ্ঞ আলেমদের মতে, বিনা কারণে তারাবির নামাজ ছেড়ে দেওয়া অত্যন্ত গর্হিত কাজ এবং এটি মাকরূহে তাহরিমি বা কবিরা গুনাহের কাছাকাছি পর্যায়ের অপরাধ।

তারাবি হলো রমজানের একটি বিশেষ প্রতীক বা শিআর। যে ব্যক্তি সারাদিন না খেয়ে থেকে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য রোজা রাখলেন, তার জন্য রাতের বেলা সামান্য সময় ব্যয় করে তারাবি না পড়া এক ধরনের অলসতা এবং কৃপণতা। এটি ব্যক্তির তাকওয়া বা খোদাভীতির ঘাটতিও প্রকাশ করে।

হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, যারা ঈমানের সাথে এবং সওয়াবের আশায় রাতের বেলা তারাবির নামাজে দাঁড়ায়, তাদের অতীতের সব ছোট গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়। তাই রোজা কবুল হওয়ার ক্ষেত্রে তারাবি শর্ত না হলেও, রমজানের পূর্ণ সওয়াব ও বরকত লাভে তারাবির গুরুত্ব অপরিসীম। অনেক সময় অসুস্থতা বা সফরের কারণে কেউ তারাবি পড়তে না পারলেও তার রোজার সওয়াব অব্যাহত থাকে, কিন্তু অলসতা করে এটি ছেড়ে দেওয়া মোটেও উচিত নয়। কারণ রমজান আসে বান্দার আমলনামা ভারী করতে, আর তারাবি সেই আমলনামার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।

এনএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ