শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬ ।। ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ২৬ জিলহজ ১৪৪৭

শিরোনাম :
প্রাথমিকে ‘সংগীত-নৃত্যের সিদ্ধান্ত’ বাতিলের দাবি ছাত্র জমিয়তের গত ২৪ ঘণ্টায় ১ শিশুসহ হাম ও উপসর্গে এখন পর্যন্ত ৬৪৩ মৃত্যু ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের চিন্তার কিছুই নেই: গভর্নর কোনো শ্রেণি বা পেশা এবার বাজেটের বাইরে নেই: অর্থমন্ত্রী বিশ্বকাপ ফুটবল: বিজাতীয় সংস্কৃতি চর্চায় ভয়ংকর উন্মাদ তরুণ প্রজন্ম!  সীমান্তে বিজিবির দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রশংসা পীরের সাহেব চরমোনাইয়ের দীনি লেবাস ও নৈতিকতার বিতর্ক: বাস্তবতা বনাম ন্যারেটিভ হিজরি সন: মুসলিম জাতিসত্তার গৌরবময় পরিচয় প্রস্তাবিত বাজেট দেশকে ঋণের দাসত্বে বাঁধার পাঁয়তারা: আমিরে মজলিস ‘প্রাথমিকে ইসলামবিরোধী অপসংস্কৃতি চাপানোর চক্রান্ত রুখে দেওয়া হবে’

শেখ মুজিবকে নিয়ে নাহিদের স্ট্যাটাস


নিউজ ডেস্ক

নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

‘শেখ মুজিবুর রহমান জাতির পিতা নন, তবে স্বাধীনতার জন্য তাঁর ত্যাগ স্বীকার করি’—এমন মন্তব্য করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম।

শুক্রবার (১৫ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, স্বাধীনতা অর্জনে শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকা ও ত্যাগ স্বীকারযোগ্য হলেও তাঁর শাসনামলে সংঘটিত জাতীয় ট্র্যাজেডি ভুলে যাওয়া উচিত নয়। ১৯৭২ সালে জনবিরোধী সংবিধান চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল; পাশাপাশি শুরু হয়েছিল লুটপাট, রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড এবং একদলীয় বাকশাল স্বৈরশাসনের ভিত্তি স্থাপন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী রাজনীতির মূল শিকড় মুজিব উপাসনা ও মুক্তিযুদ্ধ উপাসনার মধ্যে নিহিত। এসব ব্যবহার করে জনগণের ওপর অত্যাচার, জাতিকে বিভক্ত করা এবং নাগরিকদের শ্রেণিভেদে ভাগ করার রাজনৈতিক সংস্কৃতি চালু হয়েছে, যা গণতন্ত্রের আড়ালে আধুনিক জমিদারত্বের রূপ নিয়েছিল। তবে মুক্তিযুদ্ধ ছিল সকল মানুষের সম্মিলিত সংগ্রাম।

তিনি অভিযোগ করেন, কয়েক দশক ধরে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশকে নিজেদের পৈতৃক সম্পত্তি মনে করে শাসন করেছে, জবাবদিহি ছাড়া ক্ষমতা ভোগ করেছে এবং শেখ মুজিবের নামকে ব্যবহার করেছে দুর্নীতি ও দমননীতির ন্যায্যতা দিতে। তাঁর মতে, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান এই ‘জমিদারত্ব’ ভেঙে দিয়েছে। এখন আর কোনো ব্যক্তি, পরিবার বা মতাদর্শকে জনগণের অধিকার হরণ বা ফ্যাসিবাদ চাপিয়ে দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না।

নাহিদ ইসলাম আরও লেখেন, ‘জাতির পিতা’ উপাধি কোনো ঐতিহাসিক সত্য নয়; এটি আওয়ামী লীগের তৈরি একটি ফ্যাসিবাদী হাতিয়ার, যা ভিন্নমত দমন ও রাষ্ট্রের একচেটিয়া দখলের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। বাংলাদেশ সব নাগরিকের সমান, এর জন্ম বা ভবিষ্যতের মালিকানা দাবি করার অধিকার কোনো একক ব্যক্তির নেই।

তিনি মুজিববাদকে ‘ফ্যাসিবাদী ও বিভাজনমূলক’ মতাদর্শ আখ্যা দিয়ে বলেন, এর অর্থ গুম, হত্যা, ধর্ষণ, মানবাধিকার লঙ্ঘন, জাতীয় সম্পদ লুণ্ঠন ও বিদেশে পাচার। একই সঙ্গে ইসলামোফোবিয়া, সাম্প্রদায়িকতা, সংখ্যালঘুদের জমি দখল এবং বিদেশি শক্তির কাছে সার্বভৌমত্ব বিক্রিও এর অন্তর্ভুক্ত। তাঁর অভিযোগ, গত ১৬ বছর ধরে শেখ মুজিবকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে জীবিত রাখা হয়েছে, আর তাঁর মূর্তির আড়ালে অপহরণ, হত্যা, লুণ্ঠন ও গণহত্যা চলেছে।

শেষে তিনি লিখেন, মুজিববাদ আজও একটি জীবন্ত বিপদ। একে পরাজিত করতে রাজনৈতিক, আদর্শিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। আমাদের লক্ষ্য হলো একটি প্রজাতন্ত্র গঠন—যেখানে সব নাগরিক সমান, সার্বভৌম ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে কোনো দল, রাজবংশ বা নেতা জনগণের ওপরে স্থান পাবে না। বাংলাদেশ কারও সম্পত্তি নয়, এটি জনগণের প্রজাতন্ত্র।

এসএকে/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ