কাতারের ওয়াকফ ও ইসলাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ৪২ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে ওমরাহ করিয়েছে। এসব শিক্ষার্থীরা বৃত্তি নিয়ে বিভিন্ন দেশ থেকে কাতারে লেখাপড়া করতে এসেছে। লেখাপড়ায় বিশেষ কৃতিত্ব ও ইসলামী মূল্যবোধের প্রতি অঙ্গীকারের স্বীকৃতি হিসেবে তাদেরকে ওমরাহ করানো হয়েছে
শিক্ষার্থীরা গত ২৮ ডিসেম্বর ২৫ ওমরাহতে যায় এবং ৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ফিরে আসে। ওমরাহর সফরে বাংলাদেশসহ ১৪টি দেশের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। আফ্রিকান দেশগুলোর মধ্যে ছিল গাম্বিয়া, সেনেগাল, মরিতানিয়া, বেনিন, সোমালিয়া, বুরকিনা ফাসো, তিউনিসিয়া ও কোমোরোস। আর এশিয়ার ভেতর ইন্দোনেশিয়া, ভারত, থাইল্যান্ড ও বাংলাদেশ থেকে শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। পাশাপাশি গ্রেট ব্রিটেন ও রাশিয়ার প্রতিনিধিরাও এই সফরে অন্তর্ভুক্ত ছিল।
শিক্ষা ও প্রশাসন বিভাগের সাতজন তত্ত্বাবধায়কের দিকনির্দেশনায় ওমরাহ সফর পরিচালিত হয়। সফরের সূচনা হয় মদিনা মুনাওয়ারা থেকে। যেখানে শিক্ষার্থীরা মসজিদে নববীতে নামাজ আদায় করেন এবং কুবা মসজিদ ও উহুদ শহীদদের কবরস্থানের মতো গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থান পরিদর্শন করেন, যাতে তারা নবী (সা.)-এর জীবনী সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে পারেন। মদিনায় অবস্থান শেষে শিক্ষার্থীরা মক্কায় গমন করেন এবং ওমরাহর আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। কর্মসূচিতে মক্কায় তারা জাবালে সাওর, আরাফাত, পবিত্র কোরআন জাদুঘর ও ওহি জাদুঘর পরিদর্শন।
মন্ত্রণালয় জানায়, উদ্যোগটি শিক্ষা ও চরিত্র গঠনের সমন্বয় সাধনের একটি বৃহত্তর কৌশলের অংশ। কর্মসূচির আওতায় জুল-হুলাইফাহ মিকাত থেকে শুরু করে ওমরাহর সঠিক পদ্ধতি সম্পর্কে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বগুণ ও সহযোগিতার মানসিকতা গড়ে তুলতে তাদের নির্দিষ্ট দায়িত্বসহ ছোট ছোট দলে ভাগ করা হয়, যা পারস্পরিক সম্মান ও দলগত চেতনা বিকাশে সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করে।
আওকাফ মন্ত্রণালয় আরও উল্লেখ করে যে, এই বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ দেশে শান্তি ও হেদায়াতের দূত হিসেবে গড়ে তোলাই লক্ষ্য। কাতার থেকে শিক্ষা সম্পন্ন করে তারা যেন তাদের সমাজে মধ্যপন্থী ইসলাম ও প্রজ্ঞার বার্তা পৌঁছে দিতে পারে।
সূত্র: দ্য পেনিনসুলা