আওয়ার ইসলাম ডেস্ক: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে এগিয়ে গেলেও কাগজের বইয়ের আবেদন সব সময় থাকবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
যারা দেশের স্বাধীনতা চায়নি, দেশের প্রকৃত ইতিহাস, ভাষা, সংস্কৃতির ওপর তারাই বার বার আঘাত হেনেছে। এমনকি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদানও মুছে দেয়ার চেষ্টা হয়েছে বলেও জানান শেখ হাসিনা।
আজ মঙ্গলবার অমর একুশে গ্রন্থমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে এই আয়োজনে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে মেলার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এ বছর করোনা মহামারির কবলে পড়ে পহেলা ফেব্রুয়ারির জায়গায় দুই সপ্তাহ পিছিয়ে মঙ্গলবার উদ্বোধন হলো অমর একুশে গ্রন্থমেলার। তবে, বইমেলা দেরিতে শুরু হওয়ার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই মাসব্যাপী বইমেলা চলতে পারে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল ডিভাইসে বই পড়ার চেয়ে একটা বই হাতে নিয়ে পাতা উল্টে-পাল্টে পড়া অনেক আনন্দের। বই না পড়লে মনে হয় কী যেন হলো না, কি যেন জানলাম না। এই মেলা হচ্ছে আমাদের প্রাণের মেলা, কোনও কারণে এই মেলা হতে না পারলে আমাদের সকলেরই খারাপ লাগে।
বলেন, একটি জাতি সব সময় উন্নতি করতে পারে যদি তার ভাষা-সাংস্কৃতিক উন্নতি হয়। আমাদের প্রতিটি আন্দোলনে আমাদের সংস্কৃতি সেবীদের অবদান রয়েছে।
কবি, সাহিত্যিক, লেখক, সংস্কৃতিসেবী প্রত্যেকেই কিন্তু আমাদের আন্দোলন-সংগ্রাম এবং আমাদের অর্জনের পেছনে অবদান রেখে গেছেন। বিশ্বের সাথে তাল মেলাতে নিজ দেশের সাহিত্য চর্চার পাশাপাশি, বিশ্বসাহিত্যের ওপর গুরুত্ব দেয়ার আহ্বান জানান সরকার প্রধান।
দেশের সমৃদ্ধি ও আগামী প্রজন্মের জন্য ভাষার চর্চা ও সংরক্ষণ করার গুরুত্ব তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে, বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখায় ১৫ জনকে ‘বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার-২০২১’ প্রদান করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী এ পুরস্কার তুলে দেন।
উল্লেখ্য, ৩৮তম বইলে ১লা ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা দুই সপ্তাহ পিছিয়ে দেয়া হয়। এখন পর্যন্ত বইমেলা ২৮শে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে। তবে, করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হলে বইমেলার সময় আরও বাড়ানো হবে এমন কথাও জানিয়েছেন সরকার প্রধান। এবারের বইমেলার প্রতিপাদ্য ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী’।
-এটি