মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজী
চলতি বছর কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলে দেখা যায়—পুরুষ শিক্ষার্থীদের তুলনায় নারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক বেশি। নিঃসন্দেহে এই বাস্তবতা বিভিন্ন দিক থেকে আশাব্যঞ্জক ও ইতিবাচক।
তবে এর পাশাপাশি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন অনিবার্যভাবে সামনে এসে দাঁড়ায়—এই বিপুল শিক্ষিত নারীদের দাওয়াতী ভূমিকা কোথায়?
দীর্ঘদিন ধরে আমাদের মধ্যে একটি প্রত্যাশা কাজ করছিল—নারীদের মাঝে দাওয়াতী কাজের যে ঘাটতি রয়েছে, ভবিষ্যতে কওমি শিক্ষিত নারীরাই তা পূরণ করবে। কিন্তু বাস্তবতার আলোকে আজ নতুন করে প্রশ্ন উঠছে—
তারা কি সত্যিই সেই দায়িত্ব গ্রহণ করে এগিয়ে আসছে?
দাওয়াতী কাজের গুরুত্ব সম্পর্কে তাদেরকে যথাযথ ধারণা দেওয়া হয়েছে কি?
দাওয়াতের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি, সঠিক দিকনির্দেশনা ও আত্মবিশ্বাস কি তাদের মধ্যে গড়ে তোলা হচ্ছে?
যদি এই শিক্ষিত নারী সমাজ দাওয়াতী ময়দানে সক্রিয় না হয়, তবে সেখানে শূন্যতা তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক। আর সেই শূন্যতা পূরণ করবে মুসলিম নামধারী বিভিন্ন সংগঠন, এনজিও কিংবা আদর্শগতভাবে বিভ্রান্ত উদ্যোগ।
ইতোমধ্যেই আমরা আরো এক নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি—নারীদের টার্গেট করে নানা প্ল্যাটফর্মে তথাকথিত সচেতনতার আড়ালে বিকৃত নারীবাদী বয়ান ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে পুরুষদের আগেই মুসলিম নারীরা বিভ্রান্তির শিকার হওয়ার বাস্তব ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে মহিলা মাদ্রাসার সচেতন শিক্ষার্থী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, পরিচালনা পরিষদ ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেবল পাঠ্যসূচি সম্পন্ন করা বা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ করানোই যথেষ্ট নয়। বরং শিক্ষার্থীদের মধ্যে-
দাওয়াতী চেতনা জাগ্রত করা।
আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল জামাতের আকীদা ও চিন্তা এবং সমাজ বিশ্লেষণের সক্ষমতা গড়ে তোলা।
বাস্তব সমাজে কাজ করার সাহস ও কৌশল শেখানো।
নারী-কেন্দ্রিক বিভ্রান্তি ও ফিতনার মোকাবিলায় প্রস্তুত করা
—এগুলো এখন সময়ের অপরিহার্য দাবি।
মহিলা মাদ্রাসাগুলো যদি সচেতনভাবে শরিয়াহর আলোকে এই দায়িত্ব গ্রহণ করে, তবে তারা কেবল আলেমা তৈরি করবে না; বরং একটি আদর্শ, আত্মবিশ্বাসী ও দায়িত্বশীল মুসলিম নারী সমাজ গড়ে তুলতে সক্ষম হবে—যারা ঘরের ভেতরে ও নিজ নিজ পরিসরে দ্বীনের সঠিক প্রতিনিধিত্ব করতে পারবে।
অন্যথায় আমরা দেখব—শিক্ষায় অগ্রগতি সত্ত্বেও দাওয়াতী শূন্যতার কারণে একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠী পথভ্রষ্ট হয়েছে, আর আমরা তা সময়মতো উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হয়েছি।
লেখক: মহাসচিব, ইসলামী ঐক্যজোট
আরএইচ/