আওয়ার ইসলাম: সিরিয়ার গোলান মালভূমিকে ইসরায়েলি ভূখণ্ড হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়ায় তার বিরুদ্ধাচারণ করেছে সৌদি আরব। এ বিষয়ে ঘোষণাপত্রে ট্রাম্পের স্বাক্ষরেরও কঠোর নিন্দা জানায় দেশটি।
সৌদি সরকারের দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গোলান মালভূমিতে ইসরাইলি দখলদারিত্ব মেনে নেয়ার যে উদ্যোগ মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিয়েছেন, তা মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বশান্তির জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। গোলান মালভূমি এটি আরব ভূখণ্ড। এবং কারো স্বীকৃতির কারণে বাস্তবতা বদলে যাবে না বলেও বিবৃতি উল্লেখ করা হয়েছে।
গোলান মালভূমি বিষয়ে সৌদি সরকারের অবস্থান জানিয়ে বলা হয়, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী গোলানের পাহাড়ি অঞ্চলটি সিরিয়ার একটি আরব ভূখণ্ড। যা ইসরাইল অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে।
দখলের মাধ্যমে অবৈধ জিনিস কখনো বৈধ হয় না। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘোষণার মাধমে বাস্তবতার কোনো পরিবর্তন হবে না। তাই ভবিষ্যতেও এ অঞ্চল আরবের অংশ হিসেবেই থাকবে।
ট্রাম্পের ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরের বিষয়টি জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লংঘন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ফিরিয়ে নিয়ে অশান্তির আশঙ্কা দূর করবেন বলেও আশা প্রকাশ করা হয়। তার পাশাপাশি বিরোধপূর্ণ ও স্পষ্ট এমন বিষয়ে সকল দেশকে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানায় সৌদি আরব।
ইউরোপীয় ইউনিয়নও ট্রাম্পের স্বীকৃতি প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে জাতিসংঘে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান। রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, কাতার, লেবাননও ট্রাম্পের স্বীকৃতি প্রত্যাখ্যান করেছে।
উল্লেখ্য, ১৯৬৭ সালে ছয় দিনের আরব-ইসরাইল যুদ্ধের সময় তেলআবিব সিরিয়ার কাছ থেকে কৌশলগত এ এলাকাটি দখল করে নেয়। তবে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কখনই এর স্বীকৃতি দেয়নি।
দশকের পর দশক ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের দেশগুলো ইসরাইলের এ দখলদারিত্বকে প্রত্যাখ্যান করে আসছিল। মালভূমিতে বর্তমানে ২০ হাজার অবৈধ ভাবে বসবাস করছে।
-এএ