আওয়ার ইসলাম: নিইজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের রাস্তায় পুলিশের সঙ্গে কথা বলার সময় দুটি মসজিদে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় জড়িত এক সন্দেহভাজন ব্যক্তি পুলিশের তল্লাশির সময় আত্মহত্যা করেছেন।
বুধবার ( ২৭ মার্চ) ভোর রাতে ক্রাইস্টচার্চের রাস্তায় এ ঘটনা ঘটেছে। আত্মহত্যা করা ওই ব্যক্তির বয়স ৫৪। নিউজিল্যান্ডের গণমাধ্যম জানিয়েছে তিনি একজন সাবেক রুশ সেনা।
এর আগে মঙ্গলবার রাতে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ৫৪ বছর বয়সী রাশিয়ার সাবেক সেনা ‘ত্রয় দুভোস্কি’র বাসভবনে হানা দেয় পুলিশ। এ সময় তিনি বাসভবনে না থাকলেও সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয় যেগুলোর মধ্যে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রও ছিল।
ইরানি গণমাধ্যম পার্সটুডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যরাতের পর ক্রাইস্টচার্চের কেন্দ্রস্থলের একটি সড়কে দুভোস্কির সন্ধান পায় পুলিশ এবং তার গাড়িকে চ্যালেঞ্জ করা হয়। এ সময় তিনি গাড়িতে বসেই পুলিশের সঙ্গে বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন।
নিউজিল্যান্ডের পুলিশ নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে তার সঙ্গে কথা বলতে থাকে। কিন্তু দুভোস্কি আত্মসমর্পণ করতে অস্বীকৃতি জানায়।
এক পর্যায়ে তার গাড়ির মধ্যে টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে পুলিশ। তবু তিনি আত্মসমর্পণ করেননি। পরে ভোর রাত ৩টা ৪০ মিনিটে পুলিশ তাকে ছুরিকাঘাতে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। দুভোস্কির গাড়িতে একটি ছুরি ছাড়া কোনো অস্ত্র পাওয়া যায়নি।
নিউজিল্যান্ডের পুলিশ বলেছে, নিহত ব্যক্তি সমাজের জন্য হুমকি ছিল কি না তা খতিয়ে দেখার জন্য উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে। এই মুহূর্তে এই ঘটনাকে ক্রাইস্টচার্চের দুই মসজিদে হামলার তদন্তের উল্লেখযোগ্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে বলেও পুলিশ জানিয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ১৫ মার্চ ক্রাইস্টচার্চের আল নুর ও লিনউড মসজিদে এক সন্ত্রাসীর গুলিবর্ষণে ৫০ মুসল্লি নিহত হন। ওই সন্ত্রাসীকে পুলিশ আটক করলেও এখন পর্যন্ত ওই ভয়াবহ হামলার ঘটনায় দ্বিতীয় কারো জড়িত থাকার প্রমাণ পায়নি পুলিশ।
আইএ