আওয়ার ইসলাম ডেস্ক: ভয়াবহ আগুনে হতাহতের ঘটনায় লঞ্চের মালিক, স্টাফদের খুঁজছে তদন্ত কমিটি। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছেন তারা। যাত্রীদের অভিযোগ আমলে নিলেও এখনই বক্তব্য দিতে নারাজ কমিটি। অন্যদিকে দ্বিতীয় দিনের মতো প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে ডুবুরি দল।
শনিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকাল থেকেই উদ্ধার অভিযানে নামে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিদল। সুগন্ধা নদীর আশপাশের দশ কিলোমিটারজুড়ে চালানো হচ্ছে এ তৎপরতা। লঞ্চে আর কোনো মরদেহ নেই জানিয়ে নদীতে এ অভিযান চলবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এর আগে শুক্রবার (২৪ ডিসেম্বর) রাতেই উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা দিয়ে নদীর দিয়াকুল থেকে টেনে ঝালকাঠী বন্দরে আনা হয় আগুনে পোড়া লঞ্চটিকে। সকাল ১০টায় নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের গঠিত সাত সদস্যদের তদন্ত কমিটি পরিদর্শন করে ঘটনাস্থল। পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ চলছে বলে জানান কমিটি প্রধান নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব তোফায়েল আহমেদ।
বিভিন্ন দপ্তরের সাত সদস্যের প্রতিনিধি দল স্বাক্ষর গ্রহণ করেন প্রত্যক্ষদর্শী, ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যদের।
উল্লেখ্য, ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীর মাঝে ঢাকা থেকে বরগুনাগামী এমভি অভিযান-১০ লঞ্চ আগুন লাগার পর প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ মিনিট ধরে চলতে থাকে। যদিও আগুন লাগার কিছু পর তীরের দিকে নিয়ে এসেছিলেন লঞ্চটির চালক, কিন্তু স্রোতের কারণে সেটি আবার মাঝে চলে যায়। এরপর ইঞ্জিনও বিকল হয়ে যায়।
এ দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আগুনের লেলিহান শিখা এলোমেলো করে দিয়েছে জীবনের সব হিসাব-নিকাশ। প্রাণ হারানো ৪১ জনের মধ্যে ৩৩ জনই বরগুনার। এদের মধ্যে ২৩ জনের পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় তাদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে জানাজা শেষে গণকবর দেওয়া হয়েছে।
-এএ